প্রধানমন্ত্রীর পদক ও আ.লীগ নেতাদের বাঘ হত্যা!

প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক 'চ্যাম্পিয়ন অব দ্যা আর্থ' পদক লাভ করেছেন। এজন্য দেশ-বিদেশে তার উদ্দেশে স্তুতির জোয়ার বইয়ে দিচ্ছে অনুরাগীরা। এর মধ্যেই সুন্দরবনের বাঘ হত্যায় আ.লীগের অবদান নিয়ে আলচনা চলছে। শেখ হাসিনা চ্যাম্পিয়ন অব দ্যা আর্থ হওয়ার দিন তিনেক বাদেই বিবিসি বাংলা পরিবেশমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে এ বিষয়ক একটি খবর প্রকাশ করেছে।
‘রাজনৈতিক মদত পাচ্ছে বাঘের চোরাশিকারিরা’ শিরোনামের প্রতিবেদনটিতে উঠে এসেছে, আ.লীগের স্থানীয় নেতাদের প্রশ্রয়ে কিভাবে বাঘ হত্যা হচ্ছে। প্রতিবেদনটির শুরুতেই বলা হয়েছে, ''বাংলাদেশের পরিবেশমন্ত্রী বলেছেন, সে দেশের সুন্দরবনে বাঘের চোরাশিকারিরা রাজনৈতিক প্রশ্রয় পাচ্ছে আর সে কারণেই বাঘ নিধনের ঘটনা এত বাড়ছে।'' হাসিনার এই আমলে রাজনৈতিক প্রশ্রয় লীগের নেতারা ছাড়া আর কে দিতে পারে? পরিবেশমন্ত্রীর এত বলার কথা না, যা বলেছেন তাই যথেষ্ট। বাংলাদেশের মতো একটি রাষ্ট্রে এতখানি বলতে পারাটা বেশ উৎসাহব্যঞ্জক।

সম্প্রতি ক্যামেরা-ট্র্যাপিং পদ্ধতিতে বাংলাদেশে যে বাঘ গণনার কাজ সম্পন্ন হয়েছে তাতে দেখা গেছে বাংলাদেশ অংশের সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা এখন মাত্র ১০৬টি। অথচ মাত্র কিছুদিন আগেও জানা ছিল বাংলাদেশে প্রায় ৪০০ রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার আছে। সম্প্রতি চোরাশিকারীদের হাতে বেশ কিছু বাঘ হত্যার প্রমাণও মিলেছে। এর প্রেক্ষিতেই পরিবেশমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু চোরাশিকারীদের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের যোগসাজশের কথা উল্লেখ করেন। পরে তিনি বিবিসিকে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি নিজে সুন্দরবন এলাকারই লোক। ওখানে সবাই জানে এই চোরাশিকারিরা কাদের প্রশ্রয় পায়। এদের কেউ স্পর্শ করতে পারে না পর্যন্ত!’
এমনকী বন বিভাগের প্রহরীরাও সব জেনেশুনেও ভয়ে এই চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে কিছু করতে পারে না– উল্টে বনরক্ষীদেরই তাদের কথা শুনতে হয় বলে জানান পরিবেশমন্ত্রী। তবে এই অবস্থা আজকের নয়– সুন্দরবনে বহুকাল ধরেই এ ঘটনা ঘটে আসছে বলে মি হোসেনের দাবি। তাঁর কথায়, ‘বাঘের চোরাশিকার ঠেকাতে র‍্যাব-পুলিশ-বিজিবি এমন কী নৌবাহিনী পর্যন্ত মোতায়েন করা হয়েছে; কিন্তু কাজের কাজ হয়নি কিছুই।’ সরকার ঢাকায় বসে যেই সিদ্ধান্তই নিক, সুন্দরবনের দুর্গম খালবিলের অন্দরে বা জঙ্গলের ভিতরে ‘সম্পূর্ণ অন্য ঘটনা ঘটে যায়’ বলেও স্বীকার করেছেন পরিবেশমন্ত্রী। যারা চোরাশিকারিদের মদত দেয়, তারা কেউ ‘সুন্দরবনের ধারেকাছেও থাকে না’ বলেও মন্তব্য করেছেন আনোয়ার হোসেন মঞ্জু।

শেখ হাসিনা কিভাবে চ্যাম্পিয়ন অব দ্যা আর্থ হলেন, এই প্রশ্ন জোরের সঙ্গেই তোলা উচিত, যখন দেখা যাচ্ছে, তার সরকার কেবল সুন্দরবন ধ্বংসের জন্য সেখানে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রই করছে না, এমনকি তার দলের লোকেরা সিন্ডিকেট করে ৩০০ বাঘ খেয়ে ফেলেছে! প্রশ্ন উঠবে, তাহলে জাতিসংঘ তাকে কিভাবে পরিবেশের রক্ষাকর্তার পদক দিল? উত্তরটা খুবই সোজা- জাতিসংঘ তথা পশ্চিমা শাসকদের জোট হাসিনার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগকে আমলে নিতে চায় না। তারা চায় উন্নয়ন- পাহাড় কেটে, নদী ভরাট করে, বন ধ্বংস করে। এজন্যই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যেন আর কোনো অভিযোগ হালে পানি না পায়, সেই আয়োজন করতে তাকেই বানিয়ে দেয়া হলো পরিবেশ রক্ষক। যেমনটা ওবামার ক্ষেত্রে হয়েছিল, তাকে নোবেল দেয়ার মাধ্যমে!
পাঠক এবার একটু গভীর মনোযোগ দিলেই বুঝতে পারবেন, সারা বিশ্বের পুঁজিপতিদের কাছে মুনাফা তৈরীটাই মূল উদ্দেশ্য। এজন্য তারা পৃথিবীটাকে উষ্ণ বানিয়ে ফেলেছে। এখনও তারা পরিবেশ ধ্বংস করে চলেছে। পরিবেশ ধ্বংসের আয়োজনে নেতৃত্ব দেয়ায় চ্যাম্পিয়নের পদকও বিলাচ্ছে। যারা পৃথিবীকে রক্ষা করতে চান, তাদেরকে একজোট হয়ে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে। মানুষ ঐক্যবদ্ধ হলে নিশ্চয়ই এই ছদ্মবেশী বাঘ খুনিদের সহজেই ঠেকিয়ে দেয়া যাবে।


Techvoice template ad banner
Related Posts
Previous
« Prev Post
First